শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ০৬:০০ পিএম, ২০২৬-০৫-১৮
⇨ প্রশাসনের উদাসীন তৎপরতা নিয়ে জনমনে শঙ্কা
⇨ এলাকার যুব ও ছাত্র সমাজ জড়িয়ে পড়ছে মাদকে
⇨ আশ্রয়প্রশ্রয়ে রাজনৈতিক কয়েক নেতৃবৃন্দ
চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার, টাইগারপাশ, আমবাগান, ডেবারপাড় এলাকাকে মাদক ও কিশোরগ্যাংয়ের ভয়ংকর অভয়ারন্য বললে যেন কম হবে। নগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এলাকাগুলোতে প্রশাসনের অভিযানে প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে যেন বার বার ব্যর্থ হচ্ছেন। জানা যায়, এসব এলাকায় মাদক বেচা কেনায় গড়ে উঠেছে ওপেনসিক্রেট মার্কেট। প্রশাসনকে থোরাই কেয়ার করে ভয়ংকর নেশার দ্রব্য ইয়াবা, গাজা ও মদ হিরোইন ব্যবসায়ীরা। এক সময় দুমুঠো ভাত খেতে যাদের হিমশিম খেতে হতো, যারা দিনমুজুরী ও গার্মেন্টস চাকুরী করে পরিবারের দুমুঠো ভাত জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হতো। এখন তারা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। প্লট, ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিক বনে গেছে এই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদেরও অনেকে মাদক আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে কয়েকজন জানান। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার শংকায় বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন এলাকার সন্তানের অভিভাবক থেকে সাধারণ মানুষেরা। মাদকে ঝুকছে এই এলাকার স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী যুবসমাজ এমনই তথ্য পেলেন প্রতিবেদক। আর এদের থেকে তৈরী হচ্ছে কিশোরগ্যাং। মাদকসেবীরা অনেকেই প্রকাশ্যেই এলাকায় মাতলামী করেন। সমাজে তাদের ক্রয় বিক্রয় এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় কাদের সেল্টারে মাদক বিক্রি করছেন এই বিষয়ে জানতে গেলে বেরিয়ে আসে অনেক ভয়ানক তথ্য। এই মাদক সিন্ডিকেটের বিষয়ে এলাকার অনেকে বলেন, আগে আওয়ামী আমলে চলতো হরদমছে এখন বিএনপির আমলে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এসব ব্যবসায়ের মদদদাতা হিসাবে এলাকার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে আসে প্রতিবেদকের হাতে।
এলাকা ঘুরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের বক্তব্যে জানা যায়, নগরীর লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণায় অসংখ্য মানুষের বসবাস। অথচ এলাকাটা বহুদিন থেকেই মাদকের হাট-বাজার হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কোনভাবেই এই এলাকা মাদকমুক্ত করতে পারছেননা প্রশাসন। এই এলাকাকে বাংলা মদের উৎপাদনকারী এলাকা নামেও অনেকে চিনে। এখানের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বাংলা মদ তৈরী করেন বলে জানা যায় এবং দাম কম হওয়ায় অনেক ক্রেতাও পান তারা।
এলাকার মাদক বিরোধী আরো কয়েকজন জানান, মতি ঝরনা এলাকার মোটা বেলাল বা গ্যারেজ বেলাল ১০ বছর আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতো। এখন সে শত কোটি টাকার মালিক । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন বলেন, যদিও সে গাড়ির ব্যবসা করে বলে লোক দেখানো হয়। প্রকৃত অর্থে সে হিরোইন ও ইয়াবার পাইকারী ব্যবসা করে আসছে। এখন সে ব্যবসায় সিক্রেট থাকলেও তার ছেলে বাদশা এই ব্যবসা ওপেন সিক্রেট চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় বেলাল সিন্ডিকেট অনেক বড় হওয়ায় তার ভয়ে কেউ মুখ খোলেনা। মতিঝর্নার ৪নং গলিতে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে মনা ইয়াবা, গাঁজা ও বাংলা মদ বিক্রি করে, কোহিনুর ইয়াবা বিক্রি করে। রুবেল ইয়াবা এবং গাঁজা বিক্রি করে। জুয়েল ইয়াবা বিক্রি করে। মতিঝর্নার ৫ নম্বর গলিতে হোসনেয়ারা, সাদ্দাম গাজা এবং ইয়াবা বিক্রি করে।, তাহিপা ও তার বোন আয়শা এবং আয়েশার জামাই গাঁজা এবং ইয়াবা বিক্রি করে। জোড়া খাম্বা কলোনীতে পোলটা মানিক এবং তার বউ গাজা. ইয়াবা ও মদ বিক্রি করে। প্রকাশ বুতি বাংলা মদ বিক্রি করে। মাছ বাজারে ফেলে আসা সামনের গল্লিতে মায়া নামের এক নারী ইয়াবা, গাজা ও মদ বিক্রি করে অল্প সময়ে সচ্ছল হয়ে উঠেছে। এসব মদ ব্যবসায়ীদের গ্রুপিংয়ে আধিপত্য বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে অনেক সময় এলাকায় অস্থিরতা বা সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। মতিঝর্নার ৭নং গলিতে গত শুক্রবারে জুম্মার নামাজের পর লালখান বাজারে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুজন। এই এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্যের কারন ছাড়াও মাদক ও কিশোরগ্যাংদের আধিপত্য নিয়েও সংঘর্ষ ও কেইস মামলার ঘটনা ঘটছে। পারছেনা এসব এলাকার সুশীল ও শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে।
নগরীর টাইগারপাস এলাকায়ও মদ গাজা ও ইয়াবা ব্যবসা চলছে জমজমাট। এই বিষয়ে অনুসন্ধানে উঠে আসে অনেকের নাম। তারা বেশ আধিপত্যের সাথে এই মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ কয়েকবার অভিযান করলেও তারা থেকে যায় অধরা। তাদের এই ধরনের হীন কাজকর্মে ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, টাইগারপাস এলাকায় দামা ফারুক. এলাকার মালি পাড়ায় বুইচচা, তার বোন বুচুনি এবং সিমলা গাজা ও ইয়াবা বিক্রি করছে দেদারসে। মালি পাড়া ২০কোয়াটার প্রকাশ আরিফের বউ অঞ্জলি, টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনির ১৮ নং বিল্ডিং এর পিছনে বস্তি আয়শা ইয়াবা ও গাজা বিক্রি করে। রেলস্কুলের পাশে মনার বউ, জিলের পাহাড়ের সাকিল ওপেন সিক্রেট এই ব্যবসা করে যাচ্ছে। প্রশাসন নামকাওয়াস্তে অভিযান চালালেও ওরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। জানা যায়, নগরীর আমবাগান এলাকায় সোনিয়ার ছেলে আলমগির মাদকের ব্যবসা করতে যেয়ে কাউকেই পরোয়া করেনা।
সন্ধ্যার পর থেকেই গাজার গন্ধে এসব এলাকার সাধারন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠে। এলাকার সাধারণ মানুষের অনেকে বলেন, এইসব গাজা পুরানো দুর্গন্ধে বাসিন্দারা শ্বাস নিতে নিতে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। তবে তাদের সন্তানদের জীবন বিপযস্থ হচ্ছে মনে করেন তারা।
লালখান বাজার পশ্চিম মতিঝর্না এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, আমরা কিশোরগ্যাং ও মাদকব্যবসায়ীদের কাছে অসহায়। আমাদের বসবাসের পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। আমাদের প্রিয় সন্তানদের নিয়েও খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এখানে মাদকসেবীরা প্রকাশ্যে মাতলামী করে। এলাকার মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে থাকে কিশোরগ্যাংয়ের তরুন ছেলেরা। মেয়েরা ঠিকমতো স্কুল কলেজে যেতে পারেনা। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আছে বলে কেউ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেনা। তাদের প্ররোচনায় আমাদের সন্তানরাও অনেকে জড়িয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাইগারপাস এলাকার একজন বাসিন্দা প্রতিবেদককে বলেন, যারা মাদক ব্যবসা করেন, তারা যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। তারা আপন পর বুঝেন না। তাদের প্রয়োজন শুধু টাকার। কিভাবে বিত্তশালী হয়ে প্রভাব প্রতিপত্তি করবে এ যেন তাদের নেশা হয়ে উঠেছে। অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছেলাপেলা তাই কিছু বলতে পারছিনা। এসব বিষয়ে প্রশাসন যতদিন আন্তরিকভাবে অভিযান না করবে ততদিন এসব এলাকা মদ গাজা ইয়াবা ও হিরোইন মুক্ত হবেনা।
লালখান বাজার এলাকার বিএনপি নেতা নাসিম বলেন, মতিঝর্ণা এলাকায় এখন শিশুরাও মাদক সেবন করে। এলাকার ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানব বন্ধন করেছি। জানি এতেও কাজ হবেনা। তবু প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এই মানববন্ধন করি। আমরা প্রশাসনের আন্তরিক সাহায্য চাই। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোরগ্যাংয়ের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতারা বিএনপির পরিচয় দিলে আমাদের পক্ষ থেকেও কোন ছাড় নাই।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুস ছাত্তার বলেন, লালখান বাজার এলাকায় মাদক বিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত। এলাকায় মানব বন্ধন হয়েছে। মেয়রসাব উপস্থিত ছিলেন। আমরা প্রশাসনকে জানান দিচ্ছি। প্রশাসন চাইলে মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্হা নিতে পারেন। শুনেছি, যারা মানববন্ধন করেছে, তাদের অনেককে মাদক কারবারীরা হুমকি দিচ্ছে। তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্হা নিতে বলেছি। আমরা মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি চাই।
এ বিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমি নতুন এসেছি, আসার পর এই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবন কারীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান করছি। এরইমধ্যে কয়েকজনকে আটক করেছি। বাকীদের বিষয়ে অভিযান চলমান। মাদকব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কোনভাবেই এদের ছাড় দেয়া হবেনা। আমরা ওদের ধরতে যা করনীয় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : বাংলাদেশের নিবন্ধন অধিদপ্তর ও দেশের বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে এখনো একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আব্দুল হালিম সরদার: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে লিবার...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মো. ইমরুল কায়েস: চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) মঙ্গলবার (২...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক :: : কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি: নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের দেশবি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান উন...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : পটিয়াস্থ সৃজনশীল সাহিত্য গোষ্ঠী মালঞ্চ’র চার যুগপূর্তি উপলক্ষে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিয...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited